সিলেটের মোগলাবাজার থানা এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি নাজিমউদ্দিন এবং বিএনপি নেতা শামিম আহমেদ–এর বিরুদ্ধে শিব্বির আহমদ ও তার পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা, ভাঙচুর এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, একাধিকবার হুমকি, ভয়ভীতি ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে শিব্বির আহমদ একপর্যায়ে আত্বগোপ করতে বাধ্য হন। তবে এলাকায় থাকা তার পরিবারের সদস্যরা এখনও নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে দাবি তাদের।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিব্বির আহমদ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেলস এক্সিকিউটিভ (টেরিটরি সেলস ম্যানেজার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরির দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন দোকান থেকে টাকা সংগ্রহ করতেন। একদিন দোকানগুলো থেকে টাকা সংগ্রহ করে বাসায় ফেরার পথে নাজিমউদ্দিন ও তার সহযোগীরা তার কাছ থেকে নগদ অর্থ ও কোম্পানির দেওয়া মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনার পর তিনি থানায় মামলা করার উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
পরিবারের দাবি, মামলার বিষয়টি নিয়ে অগ্রসর হলে নাজিমউদ্দিন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং একপর্যায়ে শিব্বির আহমদকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এরপর থেকেই তার ওপর মানসিক চাপ ও ভয়ভীতি আরও বেড়ে যায়। নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কায় শেষ পর্যন্ত তিনি আত্বগোপন করেন।
তবে শিব্বির আহমদ আত্বগোপন করার পরও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর চাপ ও হয়রানি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, সম্প্রতি নাজিমউদ্দিন এবং শামিম আহমেদ তাদের লোকজন নিয়ে শিব্বির আহমদের পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন। পাশাপাশি প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে পরিবারটিকে চাপের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অভিযোগ অনুযায়ী, নিরাপত্তার কারণে শিব্বির আহমদের পরিবার নিজ বাড়ি ছেড়ে তার শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেয়। কিন্তু সেখানে অবস্থানকালেই গত ০৬ মার্চ ২০২৫ তারিখে নাজিমউদ্দিন ও শামিম আহমেদের নেতৃত্বে একদল লোক ওই শ্বশুরবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র নষ্ট করে ফেলে।
ঘটনার সময় পরিবারের কোনো সদস্য বাসায় উপস্থিত ছিলেন না। পরে বাড়ির কেয়ারটেকার সমুজ মিয়া মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনার বিষয়টি পরিবারকে জানান। হামলার খবর শুনে পরিবারটি চরম আতঙ্কে পড়ে এবং এরপর থেকে আর সেখানে ফিরে যায়নি। পরবর্তীতে তারাও আত্মগোপনে চলে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, হামলার পর থেকে তারা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন এবং যেকোনো সময় আবারও হামলা বা ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাজিমউদ্দিন এবং শামিম আহমেদ–এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
Leave a Reply