প্রায় চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ওপর ‘অযথা চাপ’ প্রয়োগ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনে প্রসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। মঙ্গলবার প্রকাশিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে এমনটাই দাবি করেছেন জেলেনস্কি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেছেন, শান্তি পরিকল্পনার শর্ত নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ট্রাম্প প্রকাশ্যে শুধু ইউক্রেনকেই ছাড় দিতে বলছেন, রাশিয়াকে নয়, যা ন্যায় সঙ্গত নয়।
জেলেনস্কি আরও বলেছেন, রাশিয়ার তুলনায় ইউক্রেনের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়তো সহজ। তবে তিনি শান্তি প্রচেষ্টার জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আরও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আলোচক স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আলোচনায় এ ধরনের চাপের বিষয় ছিল না।
তিনি আরও বলেছেন, আমি আশা করি এটা কেবল ট্রাম্পের কৌশল, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
ডনবাস ইস্যুতে জেলেনস্কি স্পষ্ট করে বলেছেন, পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস অঞ্চলের পুরো নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে কোনও গণভোট ইউক্রেনীয়রা মেনে নেবে না। মানসিকভাবে ইউক্রেনীয় মানুষ কখনও এটি ক্ষমা করবে না। না আমাকে, না যুক্তরাষ্ট্রকে। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনীয়দের কাছে অতিরিক্ত ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্নটি সম্পূর্ণ অবোধ্য। এটা আমাদের দেশের অংশ। এই নাগরিকরা, এই পতাকা, এই ভূমি।
জেলেনস্কি আবারও প্রস্তাব দিয়েছেন, সংঘাত বর্তমান ফ্রন্টলাইন বরাবর স্থির বা ফ্রিজ করা হোক। তিনি দাবি করেছেন, যদি নথিতে উল্লেখ থাকে যে আমরা বর্তমান সংযোগরেখায় যেখানে আছি সেখানেই থাকব, তাহলে আমি মনে করি জনগণ গণভোটকে সমর্থন করবে।
সম্প্রতি ট্রাম্প দুবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আলোচনাকে সফল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব ইউক্রেন ও জেলেনস্কিরই। এছাড়াও সোমবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেনকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসতে হবে।
উল্লেখ্য, জেলেনস্কির সাক্ষাৎকারের সময় জেনেভায় রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলছিল।
Leave a Reply