যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় আটক পাঁচ বছরের এক ইকুয়েডরীয় শিশুকে দেশটি থেকে বিতাড়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি মহলে প্রশ্ন উঠেছে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন প্রয়োগ নীতি নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন বলেন, “এগুলো মার্কিন অভিবাসন নীতি প্রয়োগেরই অংশ।” প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, “দেশের অভিবাসন আইন প্রয়োগে প্রতিশোধমূলক কিছু নেই।” শিশুটির আইনজীবী এই পদক্ষেপকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, লিয়াম কনেহো রামোস ও তার বাবা আদ্রিয়ান কনেহো আরিয়াস আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং গত মাসে তাদের আটক করা হয়। পরে ৩১ জানুয়ারি এক বিচারকের আদেশে তাদের মুক্তি দেওয়া হলে তারা মিনেসোটায় ফিরে যান।
লিয়ামের আইনজীবী ড্যানিয়েল মলিভার বলেন, আইনি শর্ত পূরণের পরও প্রশাসনের এই পদক্ষেপ গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আদ্রিয়ান কনেহো আরিয়াসকে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের অভিযোগ করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য দেয়নি।
ফেডারেল এজেন্টরা বাড়ির বাইরে থেকে শিশুটিকে আটক করার সময় নীল রঙের খরগোশের টুপি ও স্পাইডারম্যান ব্যাকপ্যাক পরা তার ছবি ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি জাতীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। পরিবারটির আইনজীবী ও বিচার বিভাগ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেনি।
সম্প্রতি মিনেসোটায় অভিবাসন অভিযান নিয়ে উত্তেজনা চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে সেখানে হাজার হাজার অভিবাসন কর্মকর্তা মোতায়েন করেছে। কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজ্যে অস্থিরতা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
অভিবাসন অভিযানের বিরুদ্ধে মিনেসোটাজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এসব অভিযানের সময় ফেডারেল এজেন্টদের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুরো বিষয়টি এখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি ও প্রয়োগ নিয়ে চলমান জাতীয় বিতর্কের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
Leave a Reply