1. faijulmunet@gmail.com : faijulmunet :
  2. cablab98@gmail.com : Abu Taher : Abu Taher
  3. cablab97@gmail.com : Tahmima Akther Iva : Tahmima Akther Iva
       
সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
এখন নির্ভয়ে কথা বলা যায়: রিজভী আরও দুটি স্বর্ণ জিতে রানার্সআপ বাংলাদেশ চীনের সিছুয়ানে বিরল খনিজের বিশাল মজুত সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের দায় এড়াতে পারে না সরকার: জামায়াতে ইসলামী কূটনীতিকদের সঙ্গে জামায়াত আমিরের ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় বিশ্বজুড়ে লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির শঙ্কা ‘জুলাই সনদে বিএনপির একমত হওয়া বিষয়গুলো বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ রাজধানীর সদরঘাটে লঞ্চ সংঘর্ষে একজনের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং বগুড়ার আদমদীঘিতে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়ে বহু মানুষের আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক, দুঃখ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) এক বিবৃতিতে তিনি শোক প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, সদরঘাটের দুর্ঘটনায় নিহত মো. সোহেল (২২)-এর মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এমন মর্মান্তিক দৃশ্য সত্যিই সহ্য করা কঠিন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত সন্ধান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি। একইসঙ্গে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত সকল যাত্রীর আশু আরোগ্য কামনা করছি। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক এই দুটি ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়; বরং দেশের পরিবহন ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবহেলা এবং দুর্বল তদারকির প্রতিফলন। সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াতের অধিকার এখনও নিশ্চিত হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মৌলিক দায়িত্ব। পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো এবারও যাত্রী চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পূর্বানুমেয় ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, এই সময়ে পরিবহন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, সতর্কতা ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা হয়নি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, সড়কে চাঁদাবাজি এবং যাত্রীদের সীমাহীন ভোগান্তি—এসব সমস্যার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। গোলাম পরওয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এসব দুর্ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ঈদযাত্রা উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, আসন্ন ঈদযাত্রার বাকি দিনগুলো এবং ঈদের পর ফেরার সময়কে সামনে রেখে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে হবে। পরিশেষে তিনি মহান আল্লাহ তা’য়ালার কাছে নিহতদের মাগফিরাত কামনা করেন, তাদের পরিবারকে ধৈর্য ধারণের তাওফিক প্রার্থনা করেন এবং আহতদের দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষিত সময়ে চালু হলো সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের আইসিইউ ব্যবহারকারীদের এনগেজমেন্ট বাড়াতে টিকটক ও মেটার ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত

চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে আসলে কী হচ্ছে, সংকট কতটা গভীরে

  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২২ বার দেখা হয়েছে

বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ দ্বার চট্টগ্রাম বন্দর। দেশের মোট আমদানি-রফতানির প্রায় ৯২ শতাংশ যে বন্দর দিয়ে হয়, সেই বন্দরের কার্যক্রম যখন দিনের পর দিন স্থবির হয়ে পড়ে, তখন তার অভিঘাত শুধু বন্দর চত্বরেই সীমাবদ্ধ থাকে না— তা ছড়িয়ে পড়ে শিল্পকারখানা, রফতানি আদেশ, বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার জীবনযাত্রায়।

ছয় দিনের টানা কর্মবিরতির পর সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরু হলেও চট্টগ্রাম বন্দর এখনও স্বাভাবিক হয়নি। বরং আন্দোলন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের জেরে সংকট নতুন করে আরও ঘনীভূত হচ্ছে। বন্দরের ভেতরে ও বাইরে কনটেইনারের পাহাড়, বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ জাহাজের দীর্ঘ সারি এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া ক্ষোভ— সব মিলিয়ে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর এখন গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে।

কীভাবে শুরু হলো এই সংকট

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে অসন্তোষ দানা বাঁধতে থাকে। শ্রমিক-কর্মচারীরা অভিযোগ করেন—এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের সঙ্গে কোনও কার্যকর আলোচনা হয়নি। সংলাপের পরিবর্তে কয়েকজন কর্মচারীকে বদলি করায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার থেকে শুরু হয় কর্মবিরতি। প্রথমে প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে, পরে তা টানা কর্মসূচিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়—যা চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।

সীমিত কার্যক্রম শুরু হলেও নেই স্বাভাবিকতা

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে আন্দোলনকারীরা দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে বন্দরের কার্যক্রম শুরু হতে সময় লাগে। জোয়ার-ভাটার সময়সূচি, রাতে জাহাজ চলাচলের সীমাবদ্ধতা এবং টানা অচলাবস্থার ধাক্কায় পুরো সিস্টেম কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে জোয়ারের সময় জেটিতে আটকে থাকা জাহাজগুলো বের করে দিয়ে বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ জাহাজগুলো জেটিতে আনা হয়। তবে পুরোপুরি অপারেশনাল গতি পেতে বিকাল গড়িয়ে যায়। এর মধ্যেই টার্মিনাল গেটগুলোতে ট্রাকের দীর্ঘ সারি দেখা যায়, যা সংকটের বাস্তব চিত্র আরও স্পষ্ট করে।

ভয়াবহ কনটেইনার জট: সংখ্যাই বলছে গভীরতা

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বন্দরের ইয়ার্ডগুলোতে জমে আছে ৩৮ হাজারের বেশি টিইইউএস কনটেইনার। এর মধ্যে প্রায় ২৯ হাজারের বেশি এফসিএল (ফুল কনটেইনার লোড)—যেগুলো সরাসরি আমদানি ও রফতানির সঙ্গে যুক্ত।

রফতানি কনটেইনারের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল

বন্দরের ভেতরে আটকে আছে প্রায় ১ হাজার টিইইউএস রফতানি কনটেইনার। বেসরকারি আইসিডিগুলোতে পড়ে আছে ১৩ থেকে ১৪ হাজারের বেশি রফতানি কনটেইনার। প্রায় ১ হাজার ৫০০ কনটেইনার বিভিন্ন বেসরকারি ডিপোতে। আরও ১ হাজার ৭৫০টি কনটেইনার কমলাপুর ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে পাঠানোর অপেক্ষায়।

নতুন করে রফতানি পণ্য বন্দরে আসতে শুরু করলেও পুরোনো জট না কাটায় পুরো ব্যবস্থাপনা চাপে পড়ছে।

বহির্নোঙরে জাহাজের দীর্ঘ অপেক্ষা

বন্দর অচলাবস্থার সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাব পড়েছে বহির্নোঙরে। সেখানে এখন অপেক্ষমাণ রয়েছে জ্বালানি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কার, ৫০টির বেশি কনটেইনার জাহাজ ও ১০০টির বেশি বাল্ক ক্যারিয়ার।

প্রতিদিন নতুন জাহাজ আসায় বার্থিং শিডিউল সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শিপিং সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী—বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ প্রতিটি জাহাজের জন্য প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ডেমারেজ চার্জ গুনতে হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যেই এই ক্ষতির অঙ্ক পৌঁছেছে শত শত কোটি টাকায়।

রফতানি খাতে বড় ধাক্কা

এই সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী তৈরি পোশাক খাত। অনেক ফিডার ভেসেল নির্ধারিত রফতানি কনটেইনার না নিয়েই বন্দর ছেড়ে গেছে। ফলে ইউরোপ ও আমেরিকাগামী পণ্যের শিপমেন্ট মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজান বলেন, “আসল সংকট সামনে। বিভিন্ন ডিপোতে ১৪ হাজারের বেশি রফতানি কনটেইনার আটকে আছে। অনেক ফিডার ভেসেল পণ্য না নিয়েই চলে গেছে। এই জট কাটাতে অন্তত দুই থেকে আড়াই মাস সময় লাগতে পারে।” তার মতে, এটি শুধু আর্থিক ক্ষতির প্রশ্ন নয়—এটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর বড় আঘাত। ইউরোপ ও আমেরিকায় সময়মতো পণ্য পৌঁছানো নিয়ে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থায় বড় ধাক্কা লাগবে।”

উৎপাদন চেইনেও ভাঙন

বন্দর অচলাবস্থার প্রভাব শুধু রফতানিতে নয়, উৎপাদন খাতেও পড়ছে। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ৮০০-এর বেশি কনটেইনার কাঁচামাল বন্দরে আটকে আছে।

প্লাস্টিক, ইলেকট্রনিকসহ বিভিন্ন শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা। খাদ্যপণ্য সময়মতো জাহাজে না উঠলে বিদেশি ক্রেতাদের পণ্য গ্রহণে অস্বীকৃতির ঝুঁকি।

শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, একদিকে কাঁচামাল আটকে উৎপাদন কমছে, অপরদিকে তৈরি পণ্য আটকে রফতানি বিলম্বিত হচ্ছে— এটি এক ধরনের ‘ডাবল শক’।

চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থায় ঝুঁকিতে ৬৬ কোটি ডলারের রফতানি: ইউরোচেম

চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান অচলাবস্থার কারণে প্রায় ১৩ হাজার কনটেইনারে আটকে পড়েছে আনুমানিক ৬৬ কোটি ডলারের রপ্তানি পণ্য। এ পরিস্থিতিতে দেশের রপ্তানি কার্যক্রম, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক আস্থায় গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চেম্বার অব কমার্স (ইউরোচেম বাংলাদেশ)।

এক বিবৃতিতে ইউরোচেম জানিয়েছে, দেশের মোট আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৯০ শতাংশের বেশি যে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, সেখানে শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতির ফলে কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এর ফলে রফতানি কনটেইনার পরিবহন প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

ইউরোচেমের তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে আড়াই হাজার রপ্তানি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক বিঘ্নের কারণে বিপুল পরিমাণ রপ্তানি পণ্য বন্দরের ইয়ার্ড, বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) এবং জাহাজে আটকে আছে। এমনকি অনেক জাহাজ নির্ধারিত সময়ে বন্দর ভিড়তে বা বন্দর ছাড়তেও পারছে না।

সংগঠনটি জানায়, এই অচলাবস্থায় ইউরোচেমের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে পণ্য সংগ্রহকারী ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলো ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে। সরবরাহের নির্ধারিত সময়সূচি বিপর্যস্ত হচ্ছে, বাড়ছে লজিস্টিক ব্যয়, যা বাংলাদেশের সরবরাহ শৃঙ্খলের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ৯৬০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দ্রুত স্বাভাবিক বন্দর কার্যক্রম পুনরায় চালু করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছে ইউরোচেম।

ইউরোচেমের বিবৃতিতে বলা হয়, “রপ্তানি কার্যক্রম সুরক্ষিত রাখা, বিদেশি চাহিদার সঙ্গে যুক্ত লাখো কর্মসংস্থান রক্ষা করা এবং নির্ভরযোগ্য উৎস দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সুনাম বজায় রাখতে পূর্বানুমেয়, নিরবচ্ছিন্ন ও দক্ষ বন্দর পরিচালনা অপরিহার্য।”

সংগঠনটি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ বন্দর কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তি এবং বন্দর পরিচালনার দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে আধুনিকায়নের গতি ত্বরান্বিত করার ওপর জোর দেয়।

ইউরোচেম আরও জানায়, ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা এবং বাংলাদেশের বাণিজ্য অবকাঠামো শক্তিশালী করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একটি স্থিতিশীল ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী বন্দর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে একযোগে কাজ করতেও তারা প্রস্তুত রয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৮ লাখ ৩১ হাজারের বেশি রপ্তানি কনটেইনার ইউনিট হ্যান্ডলিং হয়েছে, যার মোট মূল্য ছিল প্রায় ৪ হাজার ২৩০ কোটি ডলার। বাংলাদেশের মোট রফতানির প্রায় ৮০ শতাংশই আসে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাত থেকে, আর বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ বর্তমানে দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশ।

ব্যবসায়ী মহলের তীব্র উদ্বেগ

চলমান অচলাবস্থা দ্রুত নিরসন এবং স্বাভাবিক অপারেশন নিশ্চিত করতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কার্যকর হস্তক্ষেপ চেয়েছে তৈরি পোশাক খাতের আমদানি-রফতানিকারকরা। বিশেষ করে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে (ডিপি ওয়ার্ল্ড) ইজারা দেওয়ার পর শ্রমিক ও কর্মচারী সংগঠনগুলোর আন্দোলন ও কর্মবিরতির ফলে বন্দরের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

গার্মেন্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানি এবং প্রস্তুত পণ্য রফতানির প্রধান কেন্দ্র। বন্দরে কোনও ধরনের বিঘ্ন উৎপাদন চেইন ও রফতানি প্রবাহে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।”

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, চলমান কর্মবিরতির কারণে জাহাজ হ্যান্ডলিং, কনটেইনার ওঠানামা এবং আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এর ফলে দেশের প্রধান রফতানি খাত—তৈরি পোশাক শিল্প ও কাঁচামাল আমদানি ও প্রস্তুত পণ্য রফতানি মারাত্মক সমস্যার মুখে পড়েছে।

বিজিএমইএ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, নির্ধারিত লিড টাইমের মধ্যে পণ্য উৎপাদন ও রফতানি না হলে রফতানিকারকরা তাৎক্ষণিক আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ অর্ডারও হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। এছাড়া বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেলে দেশের রফতানি প্রবৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

একইসঙ্গে দেশের বৃহত্তম বাণিজ্য সংস্থা ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)ও চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছে। ডিসিসিআই জানায়, দেশের মোট আমদানি-রফতানির প্রায় ৯২ শতাংশ পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে খালাস হয়। বর্তমানে প্রায় ৫৪ হাজার কনটেইনার পণ্য বন্দরে আটকে রয়েছে। এই স্থবিরতার কারণে ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন কনটেইনারপ্রতি ১০-১৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ করছেন।

ডিসিসিআই সতর্ক করেছে, দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা রফতানি আদেশ বাতিল, পণ্য অন্য দেশে স্থানান্তর এবং স্থানীয় বাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধানে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ জরুরি।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৯ হাজার টিইইউ কনটেইনার খালাস হয়। বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এখন পর্যন্ত ৫৪ হাজারের বেশি কনটেইনার আটকে গেছে। এতে ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন কনটেইনারপ্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। শীর্ষ ১০ ব্যবসায়ী সংগঠন যৌথভাবে বলেছে, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির ‘হৃৎপিণ্ড’। একদিনের অচলাবস্থাই হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি ডেকে আনে।

প্রশাসনিক কঠোরতা ও নতুন উত্তেজনা

সংকট নিরসনের চেষ্টার মধ্যেই আন্দোলনে জড়িত ১৫ জন কর্মচারীর সম্পদ তদন্তে দুদকে চিঠি দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ একে সমঝোতার পথে বড় বাধা বলে মনে করছে। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে, যার আওতায় বহির্নোঙরও থাকবে।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। তাদের চার দফা দাবি হলো:

১. নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপিওয়ার্ল্ডকে লিজ না দেওয়া।

২. চেয়ারম্যান এম. মনিরুজ্জামানকে প্রত্যাহার।

৩. বদলি, চার্জশিট বা পদাবনতি বাতিল করে সবাইকে পুনর্বহাল এবং

৪. আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ও আইনি ব্যবস্থা প্রত্যাহার।

সংগঠনের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “সংশ্লিষ্ট সব শ্রমিক-কর্মচারীকে ধর্মঘট পালনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। এ সময় বন্দরের বহির্নোঙরে কোনও কার্যক্রম চলবে না।”

সামনে কী অপেক্ষা করছে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট এখন আর শুধু শ্রমিক আন্দোলন বা একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি পরিণত হয়েছে জাতীয় অর্থনীতি, রফতানি সক্ষমতা, বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির বড় পরীক্ষায়।

দ্রুত উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ছাড়া এই সংকট থেকে বের হওয়া কঠিন হবে। প্রতিটি অতিবাহিত দিন দেশের জন্য বাড়তি ক্ষতি ও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করছে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দর শুধু একটি অবকাঠামো নয়—এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এই বন্দরের অচলাবস্থা মানে দেশের অর্থনৈতিক চাকা থমকে যাওয়া। এখনও সময় আছে। সংলাপ, সমঝোতা ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তই পারে এই সংকট কাটিয়ে উঠতে। অন্যথায় এই অচলাবস্থা দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘদিনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত করে যেতে পারে—এই আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড়।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

রাজধানীর সদরঘাটে লঞ্চ সংঘর্ষে একজনের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং বগুড়ার আদমদীঘিতে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়ে বহু মানুষের আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক, দুঃখ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) এক বিবৃতিতে তিনি শোক প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, সদরঘাটের দুর্ঘটনায় নিহত মো. সোহেল (২২)-এর মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এমন মর্মান্তিক দৃশ্য সত্যিই সহ্য করা কঠিন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত সন্ধান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি। একইসঙ্গে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত সকল যাত্রীর আশু আরোগ্য কামনা করছি। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক এই দুটি ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়; বরং দেশের পরিবহন ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবহেলা এবং দুর্বল তদারকির প্রতিফলন। সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াতের অধিকার এখনও নিশ্চিত হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মৌলিক দায়িত্ব। পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো এবারও যাত্রী চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পূর্বানুমেয় ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, এই সময়ে পরিবহন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, সতর্কতা ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা হয়নি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, সড়কে চাঁদাবাজি এবং যাত্রীদের সীমাহীন ভোগান্তি—এসব সমস্যার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। গোলাম পরওয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এসব দুর্ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ঈদযাত্রা উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, আসন্ন ঈদযাত্রার বাকি দিনগুলো এবং ঈদের পর ফেরার সময়কে সামনে রেখে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে হবে। পরিশেষে তিনি মহান আল্লাহ তা’য়ালার কাছে নিহতদের মাগফিরাত কামনা করেন, তাদের পরিবারকে ধৈর্য ধারণের তাওফিক প্রার্থনা করেন এবং আহতদের দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেন।

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © কালেরধারানিউজ২৪
Designed By Barishal Host