কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার লাম্বাশিয়া আশ্রয়শিবিরে রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহ (৫০) হত্যার ঘটনায় করা মামলার আসামি আরসার কমান্ডার জাহিদ হোসেন লালুকে (৪০) গ্রেফতার করেছে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন যৌথ আভিযানিক দল। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ-সংলগ্ন সেনা ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সায়মন সিকদার।
সেনা কর্মকর্তা জানান, বুধবার সকাল ৭টার দিকে কুতুপালং ১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি বসতঘরে আরসার কমান্ডার লালুর অবস্থানের তথ্য পায় যৌথ বাহিনী। তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ আভিযানিক দল অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন ঘরটি ঘিরে ফেললে এক ব্যক্তি কৌশলে পালানোর চেষ্টা করে। পরে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ধাওয়া দিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। ওই ব্যক্তিকে তল্লাশি করে একটি বিদেশি পিস্তল ও ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল সায়মন সিকদার জানান, উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা জাহিদ হোসেন লালু তুমব্রু সীমান্তে ডিজিএফআই কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার রিজওয়ান রুশদি হত্যা, আলোচিত রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহ হত্যাসহ একাধিক হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। লালু দীর্ঘদিন ধরে আরসার প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও দেহরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে আরসার বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন। লালুর নেতৃত্বে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, অগ্নিসংযোগসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালিত হতো।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, লালু ২০২১ সালে ১৮ নম্বর ক্যাম্পের একটি মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে ছয় জন ছাত্র-শিক্ষককে হত্যা, একই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ড এবং ডিজিএফআই কর্মকর্তা হত্যার ঘটনাসহ বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
গ্রেফতার সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে তাকে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়
Leave a Reply