জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে কর্মজীবী মায়েদের কর্মঘণ্টা হবে ৫ এবং বাকি ৩ ঘণ্টা সরকার ভর্তুকি দেবে বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমমান।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই কথা জানান তিনি।
শুরুতে জামায়াত আমির একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের আন্দোলনে শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। এরপর রাষ্ট্র গঠনে দলের রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি।
২৬টি বিষয়ে সরকার পরিচালনায় অগ্রধিকার দিতে চায় জামায়াত। আট ভাগে তুলে ধরা হয়েছে ৪১টি ভিশন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইশতেহার জামায়াতের কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটা দেশ গঠনের জীবন্ত দলিল।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও মৌলিক অধিকারের বিষয়েগুলো তুলে ধরা হয়েছে ইশতেহারে। দলীয় প্রধান জানান, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কর্মজীবী মায়েদের কর্মঘণ্টা ৫ করা হবে, বাকি ৩ ঘণ্টার ভর্তুকি দেবে সরকার।
জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ে থাকুক, এটা আমাদের যুবসমাজ আর চায় না। আমাদের দায় রয়েছে তাদের কাছে। ১৪০০ মরদেহ আজকে এই জাতির ঘাড়ে। আর থালা থালা রক্ত। তারা জীবনের মূল্যবান এই সম্পদ উপহার দিয়ে আমাদের একটি নতুন পথ রচনার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। আমরা অবশ্যই অবহেলা করবো না। অবশ্যই তাদের এই আমানতের কোনও খেয়ানত করবো না। আমানতের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে এগিয়ে যাবো
তিনি আরও বলেন, ‘আজ যে ইশতেহার প্রকাশ করা হয়েছে, তার কোনও অংশকে দেশ এবং মানুষের কল্যাণে যদি আপনি মনে করেন— আরও ভালো করার সুযোগ রয়েছে, তাহলে আমাদের সহযোগিতা করবেন। দেশ যদি ভালো না থাকে, আমরা কোনও অবস্থায় ভালো থাকবো পারবো না। আমরা বিশ্বের সব সভ্য দেশের সঙ্গে মানবিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করতে চাই।
সবাইকে সম্মান দিতে চান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরাও সবার কাছ থেকে একটুখানি ভালোবাসা এবং সম্মান চাই। সবাই হাতে হাত ধরে পরস্পরকে সম্মান করলে, মর্যাদা বিশ্বের দরবারে অনেক বেড়ে যাবে। আমাদের শক্তি অনেক বৃদ্ধি পাবে এবং আমাদের পারস্পরিক হানাহানি অথবা দূরত্ব দূর হয়ে যাবে।
Google News Logoবাংলা ট্রিবিউনের খবর পেতে গুগল নিউজে ফলো করুন
/এএইচএস/এপিএইচ/
জামায়াতে ইসলামীনারীইশতেহারত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনশফিকুর রহমান
সম্পর্কিত
নির্বাচনি ইশতেহার
জামায়াতের প্রতিশ্রুতি মানবিক বাংলাদেশ, ইসলামী আন্দোলন চায় শরিয়াহ
জামায়াতে আস্থা কুড়িগ্রামের নারীদের, নেতিবাচক প্রচারকে বলছেন ‘ভুয়া’
নির্বাচন সামনে রেখে নগদ টাকার ছড়াছড়ি
সর্বশেষ খবর
২১ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে যেসব এলাকায়
২১ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে যেসব এলাকায়
জামায়াতের প্রতিশ্রুতি মানবিক বাংলাদেশ, ইসলামী আন্দোলন চায় শরিয়াহ
নির্বাচনি ইশতেহার
জামায়াতের প্রতিশ্রুতি মানবিক বাংলাদেশ, ইসলামী আন্দোলন চায় শরিয়াহ
প্যারোলে মুক্তি মেলেনি আ.লীগ কর্মীর, বাবার মরদেহ এলো কারাগারে
প্যারোলে মুক্তি মেলেনি আ.লীগ কর্মীর, বাবার মরদেহ এলো কারাগারে
গ্রিসে বাসায় নামাজের জামাত আয়োজনের অভিযোগে বাংলাদেশির রেসিডেন্স পারমিট বাতিল
গ্রিসে বাসায় নামাজের জামাত আয়োজনের অভিযোগে বাংলাদেশির রেসিডেন্স পারমিট বাতিল
সর্বাধিক পঠিত
জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের অভিযোগে বঙ্গভবনের কর্মকর্তা আটক
জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের অভিযোগে বঙ্গভবনের কর্মকর্তা আটক
এবার জামায়াত সেক্রেটারির এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে আপত্তিকর পোস্ট, হ্যাক হওয়ার দাবি
এবার জামায়াত সেক্রেটারির এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে আপত্তিকর পোস্ট, হ্যাক হওয়ার দাবি
পাকিস্তানকে রাজি করাতে যে কৌশল নিয়েছে আইসিসি
পাকিস্তানকে রাজি করাতে যে কৌশল নিয়েছে আইসিসি
রফতানি বাজার হারানোর ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
রফতানি বাজার হারানোর ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
শেরপুরে জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যু
শেরপুরে জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যু
নির্বাচনি ইশতেহার
জামায়াতের প্রতিশ্রুতি মানবিক বাংলাদেশ, ইসলামী আন্দোলন চায় শরিয়াহ
আতিক হাসান শুভ
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:১২
নিজ নিজ দলের পক্ষে ইশতেহার ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের আমির (কোলাজ)
নিজ নিজ দলের পক্ষে ইশতেহার ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের আমির (কোলাজ)
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে ২৬টি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে ৪১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে জামায়াত। অন্যদিকে, রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বত্র শরিয়াহর প্রাধান্য দিয়ে মৌলিক ৩০ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’ নামে দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করেন ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। অপরদিকে, সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে ‘জনতার ইশতেহার’ নামে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
রাষ্ট্র পরিচালনায় যুবকদের প্রাধান্য, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত, প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ গঠন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপসহ ২৬টি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে ৪১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচনি ইশতেহারে যে ২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার দেবে দলটি—
‘জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ’ স্লোগানের আলোকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন।
বৈষম্যহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশ গঠন।
যুবকদের ক্ষমতায়ন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের প্রাধান্য দেওয়া।
নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের মাধ্যমে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত নিরাপদ রাষ্ট্র বিনির্মাণ।
সব পর্যায়ে সৎ নেতৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন।
প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠন।
প্রযুক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি ও শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সরকারি চাকরিতে বিনামূল্যে আবেদন, মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও বৈষম্য দূরীকরণ।
ব্যাংকসহ আর্থিক খাতে সংস্কার করে বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব টেকসই অর্থনীতি গঠন।
পিআর পদ্ধতিসহ সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করা।
খুন, গুম ও বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করা।
জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন।
কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে কৃষিবিপ্লব ঘটানো।
২০৩০ সালের মধ্যে ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা এবং ‘তিন শূন্য ভিশন’ বাস্তবায়ন।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিল্পায়ন।
শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনমান উন্নয়ন এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।
প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ সব অধিকার নিশ্চিত করা।
সবল নাগরিকের সমান অধিকার ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা।
আধুনিক ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং গরিবদের জন্য বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা।
শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার ও পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে শিক্ষা।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও মৌলিক চাহিদার নিশ্চয়তা।
যাতায়াতব্যবস্থার মৌলিক উন্নয়ন।
নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য স্বল্পমূল্যে আবাসন।
ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণ বিলোপ।
সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করা।
রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বত্র শরিয়াহর প্রাধান্য দেবে ইসলামী আন্দোলন
রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বত্র শরিয়াহর প্রাধান্যসহ মৌলিক ৩০ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। মৌলিক ইশতেহারের বাইরে ১২টি বিশেষ কর্মসূচি, আট দফা নীতিগত অবস্থান, রাষ্ট্র সংস্কারে ছয় দফা পরিকল্পনা এবং খাতভিত্তিক ২৮ উন্নয়ন পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।
ইশতেহারে রয়েছে— রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন, দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, সাম্য ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত, কৃষি ও শিল্পবিপ্লবের মাধ্যমে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দূরীকরণ, নৈতিকতা ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা, সর্বজনীন কর্মসংস্থান এবং পর্যায়ক্রমিক রাষ্ট্র সংস্কার।
এছাড়া নারী, শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা, বৈষম্য বিলোপ, সবার জন্য উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা, পরিবেশদূষণ রোধ, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পারস্পরিক সহাবস্থান, সুষ্ঠু নির্বাচন এবং পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
ইশতেহারে আরও বলা হয়েছে— খুন-গুম ও মিথ্যা মামলা বন্ধ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত, নারীদের অগ্রাধিকার প্রতিষ্ঠা, শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ-গ্যাস-বিদ্যুৎ নিশ্চিত, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, কওমি মাদ্রাসার ডিগ্রিধারীদের সরকারি সুযোগের আওতায় আনা এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ।
১২ দফা বিশেষ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— হতদরিদ্রদের মাসিক পাঁচ হাজার টাকা সহায়তা, ১৮–২৪ বছর বয়সীদের জন্য সুদমুক্ত ও জামানতবিহীন ঋণ, স্বাস্থ্যকার্ড ও কৃষিকার্ড চালু।
একমঞ্চে ৯ প্রার্থীর নির্বাচনি ইশতেহার
ঢাকা-১৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ববি হাজ্জাজসহ ৯ প্রার্থী একমঞ্চে নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন।
ইশতেহারে তারা মাদক, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি বন্ধ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, যানজট নিরসন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং নিরাপদ পানির নিশ্চয়তার প্রতিশ্রুতি দেন।
এসময় ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, বাসদ মনোনীত প্রার্থী খালেকুজ্জামান, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী শাহরিয়ার ইফতেখার, ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী ফাতেমা আক্তার মুনিয়া, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির প্রার্থী মো. শাহাবুদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মো. রবিউল ইসলাম ও আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেল রানা একে একে তাদের ইশতেহার পাঠ করে শোনান।
ক্ষমতায় গেলে বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের
বুধবার নির্বাচনি জনসভায় বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। তিনি জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান।
জুলাইয়ে শহীদদের পরিবারের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণ তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার সুযোগ পাবে।
/এম/
বিষয়:
জামায়াতে ইসলামীইসলামী আন্দোলনইশতেহারত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচননির্বাচনি প্রচারণা
কেউ সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগরিষ্ঠ নন, সবাই বাংলাদেশি: মির্জা আব্বাস
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৩৯
মির্জা আব্বাস (ফাইল ছবি)
মির্জা আব্বাস (ফাইল ছবি)
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, বাংলাদেশে কেউ ‘সংখ্যালঘু’ বা ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ’ নন; আমরা সবাই সমান অধিকারসম্পন্ন বাংলাদেশি নাগরিক। তিনি বলেন, ‘সংখ্যালঘু’ শব্দটি ব্যবহার করে কোনও সম্প্রদায়কে আলাদা করে দেখানো বা ছোট করা ঠিক নয়।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানীর কাকরাইলের সেন্ট মেরি’স ক্যাথিড্রালে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার সমান এবং কেউ কারও ‘ভোটব্যাংক’ নয়। তিনি বলেন, ইসলাম ধর্মে স্পষ্টভাবে বলা আছে—যার যার ধর্ম তার তার কাছে। তাই সবার মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা জরুরি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাত্র ২১ দিনের নির্বাচনি প্রচারণা তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে প্রথম অভিজ্ঞতা। সময় কম থাকায় বিশাল এই এলাকায় প্রচারণা চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এটি তার জন্য একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ভিত্তিতেই বাংলাদেশে সবাই মিলেমিশে বসবাস করছে। মাঝেমধ্যে কিছু কুচক্রী মহল বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করলেও তা সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করা হয়। এ সময় তিনি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ ও সাবলীল জীবনযাপনের প্রশংসা করেন।
মতবিনিময় সভায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের স্থানীয় নেতারা ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে মির্জা আব্বাস কাকরাইল এলাকায় গণসংযোগ চালান।
/এমকে/এম/
বিষয়:
বিএনপিমির্জা আব্বাসত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র উপহার দেবে: জুবাইদা রহমান
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:৫৫
বক্তব্য রাখছেন জুবাইদা রহমান
বক্তব্য রাখছেন জুবাইদা রহমান
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় গেলে শ্রমের মর্যাদা নিশ্চিত করে সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র উপহার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। একইসঙ্গে দেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানীর হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে বিএনপির মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, “বিএনপি সুষ্ঠু পরিকল্পনার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। আমরা শ্রমের মর্যাদা, মেধার মূল্যায়ন ও সুবিচার নিশ্চিত করতে চাই। এমন একটি দেশ উপহার দিতে চাই, যেখানে নেতার আগে জনতা। এ লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের নানা ক্ষেত্রে বর্তমানে অনেক সমস্যা রয়েছে। তবে সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব। এখন আমাদের গৌরবের নতুন সূর্যোদয়।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৭ আসনে ধানের প্রতীকের প্রধান নির্বাচনি সমন্বয়ক আব্দুস সালাম, সমন্বয়ক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনারসহ দলের অন্যান্য নেতারা।
এ সময় জানানো হয়, আগামী শুক্রবার বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করা হবে। এতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে দলের রূপরেখা তুলে ধরা হবে।
/এমকে/এম/
বিষয়:
বিএনপিত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন
‘গুপ্ত’ কী, কেন আলোচনায়
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:৫১
তারেক রহমান ও শফিকুর রহমান
তারেক রহমান ও শফিকুর রহমান
পৃথিবীর ইতিহাসে ‘গুপ্ত’ পরিচয় ইতিবাচক ও নেতিবাচক নানাভাবেই উত্থাপিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এর আগে কখনও এত ঘনঘন গুপ্ত শব্দ উচ্চারিত হয়নি। নিষিদ্ধ রাজনীতি বা গোষ্ঠী কার্যক্রম চালিয়েছে গুপ্তভাবে। কিন্তু ক্ষমতাশালী দলের ভেতরে থেকে নিজ আদর্শ ধরে রাখার বিষয়টি ব্যাপক আকারে বেশি পুরোনো না। ২০২৪ সালে জুলাই মাসের পর হওয়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ‘গুপ্ত’ নতুন পরিচয় পেয়েছে। এরপর নানা পরিস্থিতিতে, নানা পরিপ্রেক্ষিতে গুপ্ত বিষয়টি উঠে এসেছে বারবার। নির্বাচনের মাঠে এসে শব্দটা এতটাই আলোচনায় এসেছে যে, পরস্পরকে ‘গুপ্ত’ বলে চিহ্নিত করার কারণে আলোচনার ডাল-পালা মেলছে প্রচারণার মাঠে, এমনকি জনসভাতেও।
প্রাচীন যুগে গুপ্ত বিষয়টির আলোচনা ছিল ভিন্নভাবে। বিভিন্ন জায়গায় রাজারা দূত পাঠাতেন গোপনে চুক্তি, জোট বা যুদ্ধবিরতি নিয়ে কথা বলতে। বিভিন্ন সময়ে ‘আনুষ্ঠানিকভাবেই’ গুপ্তচর, গোপন বার্তা ও আড়ালের আলোচনার কথা শোনা যায়। মধ্যযুগে রাজ দরবারে গুপ্ত বৈঠক, ছদ্মবেশী দূত— সবই ছিল খুব স্বাভাবিক চর্চা। এক এক শতকে দুই বাংলায় গুপ্ত সংগঠনের তালিকা অনেক লম্বা। কিন্তু এখনকার গুপ্ত আলোচনাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
২০২৪ সালে এসে গুপ্ত শব্দের একটা নতুন পরিচয় বের হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যারা ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে থাকতো, তাদের অনেকে পরবর্তীকালে ভিন্ন সংগঠনের বলে নিজেদেরকে দাবি করেন। জুলাই আন্দোলন পরবর্তী সময়ে সেটাকে কৌশল হিসেবে উল্লেখ করে আত্মপ্রকাশ করেছেন। তখন সংগঠনের মধ্যে নিজেকে লুকিয়ে রাখাকে গুপ্ত বলে চিহ্নিত করা হয়। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে ছাত্রদল সভাপতি এক সমাবেশে বলেন, শিবিরের কোন নেতা জুলাই আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে ভূমিকা রেখেছিল, সেটি আমরা দেখতে চাই। শিবিরের নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগের মধ্যে গুপ্ত অবস্থায় ছিল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, শিবির হলো গুপ্ত সংগঠন— যারা ছাত্রলীগের আশ্রয়- প্রশ্রয়ে ছিল। জুলাই বিপ্লব ব্যর্থ হলে তারা কি তাদের পরিচয় প্রকাশ করতো? সেই তর্ক এগোয়নি। সে সময় আন্দোলনের কৌশল হিসেবে বেশ সুনামও করা হয় তাদেরকে।
এরপর আবারও গুপ্ত শব্দটি এলো নির্বাচনি মাঠে। ৩১ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জনসভায় বলেন, ‘‘আমাদের সতর্ক থাকতে হবে— যেন কোনও ষড়যন্ত্র করে কেউ আবার আপনাদের ভোটের অধিকারকে কেড়ে নিয়ে যেতে না পারে। অনেকেই এসে আপনাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। যারা আপনাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, দেখামাত্র তাদের বলবেন, গুপ্ত তোমরা। কারণ, তাদের গত ১৬ বছর আমরা দেখি নাই। তারা ওদের সঙ্গে মিশে ছিল, যারা ৫ তারিখে পালিয়ে গিয়েছে।’’
পরের দিন জনসভায় এই কথার সুর ধরে জবাব দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘‘অনেকে আমাদেরকে খোঁচা দেয়। আমরা নাকি গুপ্ত নাকি সুপ্ত। লজ্জা! নিজেরা যারা গুপ্ত-সুপ্ত হয়ে থেকেছেন, সেই লোক যদি আমাকে গুপ্ত বলেন, আপনাকে গুপ্ত বলে, আপনার কেমন লাগবে বলেন!’’
গুপ্ত বললে জামায়াতের দিক থেকে প্রতিক্রিয়া আসার কারণ কী জানতে চাইলে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেন, ‘‘গুপ্ত বললে ওনার গায়ে লেগেছে বলেই উনি প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। কারণ ওনারা ইসলামি দল করেন, যেখানে গুপ্তের কোনও সুযোগ নেই। ইসলামে গুপ্তকে মুনাফেকি বলে। জামায়াত যেই মাত্র স্বীকার করবে যে, তারা গুপ্ত রাজনীতিতে ছিল, সেই মাত্রই সে ইসলামের দৃষ্টিতে সমালোচনার মুখে পড়বে।’’
এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখ্য সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘যারা ২৪ বছর একসঙ্গে জোটের রাজনীতি করে শরিক দলকে এখন গুপ্ত বলছে, এটি এক ধরনের আত্মপ্রতারণা। একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধানের মুখে এ ধরনের শব্দ চয়ন অতিরঞ্জিত ও বেমানান। এতে তার নিজের জনপ্রিয়তা ক্রমান্বয়ে অবনতি হতে পারে।’’
তিনি বলেন, ‘‘রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী অতীতে অনেক নেতাকেই আত্মগোপনে যেতে হয়েছে। এটা এক ধরনের কৌশল। তবে সেই পরিস্থিতি নিয়ে কারও রেগে যাওয়া না যাওয়ার বিষয় নয়। কিন্তু ফ্যাসিস্ট আমলের পরিস্থিতি নিয়ে কোনও শীর্ষ নেতার পক্ষ থেকে বারবার এ ধরনের উক্তি দুঃখজনক।’’
/এপিএইচ/
বিষয়:
জামায়াতে ইসলামীতারেক রহমানছাত্রশিবিরজামায়াত আমিরত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনগুপ্ত
ক্ষমতায় গেলে যে ২৬ বিষয়কে অগ্রাধিকার দেবে জামায়াত
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:৪৫
সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়
সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ঘোষিত ইশতেহারে সরকার গঠন করলে ২৬টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবে বলে জানিয়েছে দলটি। রাষ্ট্র পরিচালনায় যুবকদের প্রাধান্য, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত, প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ গঠন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপসহ ২৬টি বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে জামায়াতের নির্বাচনি ইশতেহারে। অগ্রাধিকার পাবে ২৬ বিষয়। সেগুলো হলো–
১. ‘জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ’ এই স্লোগানের আলোকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন।
২. বৈষমাহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠন।
৩. যুবকদের ক্ষমতায়ণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় আদের প্রাধান্য দেওয়া।
৪. নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠন।
৫. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি নিরাপদ রাষ্ট্র বিনির্মাণ।
৬. সব পর্যায়ে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন।
৭. প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠন।
৮. প্রযুক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি ও শিল্পসহ নানা সেক্টরে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সরকারি চাকরিতে বিনামূল্যে আবেদন, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও সব ধরনের বৈষম্য দূর করা।
৯. ব্যাংকসহ সার্বিক আর্থিক খাতে সংস্কারের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব টেকসই ও স্বচ্ছ অর্থনীতি বিনির্মাণ।
১০. সমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচনসহ সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করে সুসংহত ও কার্যকর গণতন্ত্র নিশ্চিত করা।
১১. বিগত সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া খুন, গুম ও বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা।
১২. জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবার, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে।
১৩. কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষকদের সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষিতে বিপ্লব সৃষ্টি করা।
১৪. ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা এবং ‘তিন শূন্য ভিশন’ (পরিবেশগত অবক্ষয়ের শূন্যতা, বর্জ্যের শূন্যতা এবং বন্যা-ঝুঁকির শূন্যতা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ‘সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ’ গড়া।
১৫. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে ব্যাপকভিত্তিতে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান তৈরি।
১৬. শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি এবং মানসম্মত কাজের পরিবেশ; বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ, সৃষ্টি করা।
১৭. প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ সব অধিকার নিশ্চিত করা এবং দেশ গঠনে আনুপাতিক ও বাস্তবসম্মত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
১৮. সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু (মেজরিটি-মাইনরিটি) নয়, বরং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবার নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পিছিয়ে থাকা নাগরিক ও শ্রেণি-গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা।
১৯. আধুনিক ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া এবং গরিব ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
২০. সমসাময়িক বিশ্বের চাহিদাকে সামনে রেখে শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এবং পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা।
২১. দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদার পূর্ণ সংস্থানের নিশ্চয়তা।
২২. যাতায়াতব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং রাজধানীর সঙ্গে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর সড়ক/রেলপথের দূরত্ব পর্যায়ক্রমে দুই-তিন ঘণ্টায় নামিয়ে আনা। দেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ ও ঢাকার অভ্যন্তরীণ যাতায়াতব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা।
২৩. নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্বল্পমূল্যে আবাসন নিশ্চিত করা।
২৪. ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণ বিলোপে চলমান বিচার ও সংস্কার কার্যক্রমকে অব্যাহত রেখে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনর্জন্ম রোধ করা।
২৫. সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে নিরাপদ কর্মজীবন ও পর্যায়ক্রমে সব নাগরিকের আন্তর্জাতিক মানের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
২৬. সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ কল্যাণরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা।
Leave a Reply