1. faijulmunet@gmail.com : faijulmunet :
  2. cablab98@gmail.com : Abu Taher : Abu Taher
  3. cablab97@gmail.com : Tahmima Akther Iva : Tahmima Akther Iva
       
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০১:২৬ পূর্বাহ্ন

ভোটকেন্দ্র ঘিরে নিরাপত্তা বলয়, তবু সহিংসতা নিয়ে শঙ্কা

  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৫ বার দেখা হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র নিরাপদ রাখতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতির কথা জানানো হচ্ছে। কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশ, বিজিবি ও আনসারের পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। বিভিন্ন সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তায় থাকবে। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থাও যুক্ত করা হচ্ছে পুরো নিরাপত্তা পরিকল্পনায়।

তবে মাঠপর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে—কোনও কেন্দ্রে হঠাৎ সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা শুরু হলে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আদৌ তা দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে কিনা। একইসঙ্গে আলোচনায় রয়েছে, টানা দায়িত্ব ও চাপে থাকা পুলিশ সদস্যদের মানসিক প্রস্তুতি ও কাউন্সেলিং সহায়তা কতটা নিশ্চিত করা হয়েছে।

তাছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি সভা-সমাবেশে দেওয়া নেতাদের বক্তব্য থেকে পেশিশক্তি প্রদর্শনের ইঙ্গিত মিলছে। ফলে ভোটের দিন সংঘর্ষ বা উত্তেজনার আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা সভা-সমাবেশে যেভাবে একে অপরকে আক্রমণাত্মক ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছেন, তাতে নির্বাচনের দিন সহিংসতার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারও হতে পারে। কেন্দ্র নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের প্রস্তুতি ও বাহিনীগুলোর আশ্বাস থাকলেও তা বাস্তব প্রয়োগে বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।’’

পরিকল্পনায় যা থাকছে

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি ফোর্স, মোবাইল টিম ও রিজার্ভ ফোর্স রাখা হবে। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা দেখা দিলে র‍্যাব, বিজিবি এবং প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনী দ্রুত মোতায়েনের প্রস্তুতি রয়েছে।

ভোটকেন্দ্রে বডি-ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি ও ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি করা হবে। চালু থাকবে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ ২০২৬’। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কাগজে-কলমে প্রস্তুতি থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি অনেক সময় ভিন্ন রূপ নেয়। একটি কেন্দ্রে হঠাৎ সংঘর্ষ শুরু হলে প্রথম কয়েক মিনিটই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তখন মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ও মানসিক স্থিরতার ওপর পুরো পরিস্থিতি নির্ভর করে।

নির্বাচনকালীন দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়। বিশ্রাম কম থাকে, চাপ থাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। মাঠপর্যায়ের অনেক সদস্যের ভাষ্য—নিয়মিত ব্রিফিং থাকলেও মানসিক চাপ মোকাবিলায় কাঠামোবদ্ধ কাউন্সেলিং বা সাইকোলজিক্যাল সাপোর্ট খুব একটা পাওয়া যায় না।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘নির্বাচনকালীন দায়িত্বে পুলিশ সদস্যদের মানসিক চাপ বিবেচনায় রেখে কাউন্সেলিং ও প্রয়োজনীয় ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে তাদের প্রস্তুত করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ধৈর্য ও পেশাদারত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’’ তিনি জানান, ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়—সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা হবে। থানা থেকে দূরবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও টহল জোরদার করা হবে।

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) বাহারুল আলম বলেন, ‘‘পুলিশ এককভাবে নয়, অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। যেকোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে। প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে রিজার্ভ ফোর্স পাঠানো হবে।’’ তিনি আরও জানান, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যাতে পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এক মতবিনিময় সভায় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘‘ভোটের দিন ব্যালট ছিনতাই, কারচুপি বা ভোটারদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।’’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেন, ‘‘ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ধরনের শৈথিল্যের সুযোগ নেই। যেকোনও বিশৃঙ্খলা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হবে।’’ তিনি বলেন, ‘‘কেন্দ্রভিত্তিক ঝুঁকি মূল্যায়ন করে সে অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’’

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © কালেরধারানিউজ২৪
Designed By Barishal Host