ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি)। এই নির্বাচন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা নিয়ে বিভ্রান্তি ও শঙ্কা বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে আগের চেয়ে অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্যভাবে তৈরি করা মিথ্যা ভিডিও বা ডিপফেক এবং সংবাদপত্রের ফটোকার্ড নকল করে ভুয়া বক্তব্য প্রচার বা চিপফেকের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ফলে ভোটারদের বিভ্রান্ত করা, রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করা কিংবা প্রার্থীদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার ঝুঁকি বেড়েছে।
নির্বাচনের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যা দেখছেন বা শুনছেন— সবই যে সত্য, তা নয়। একটু সচেতনতা আর একটু যাচাই করলেই ঠেকানো সম্ভব বড় ধরনের বিভ্রান্তি।
ডিপফেক কী এবং কেন বিপজ্জনক?
ডিপফেক হলো এমন ছবি, ভিডিও বা অডিও, যা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়। এতে কোনও ব্যক্তির মুখ, কণ্ঠস্বর বা বক্তব্য এমনভাবে পরিবর্তন করা যায়, যেন তা বাস্তব মনে হয়। নির্বাচনের সময় কোনও প্রার্থীর ভুয়া বক্তব্য, আপত্তিকর ভিডিও বা বিকৃত ছবি দ্রুত ভাইরাল হয়ে জনমত প্রভাবিত করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটের আগে আবেগপ্রবণ পরিবেশে মানুষ অনেক সময় যাচাই না করেই কনটেন্ট শেয়ার করেন—যা বিভ্রান্তি আরও বাড়ায়।
কীভাবে বুঝবেন ছবি বা ভিডিওটি সন্দেহজনক?
১. মুখের অস্বাভাবিকতা খেয়াল করুন: চোখের পলক কম ফেলা, ঠোঁটের নড়াচড়া ও কণ্ঠের অমিল, মুখের চারপাশে ঝাপসা অংশ—এসব ডিপফেকের লক্ষণ হতে পারে।
২. আলো-ছায়ার অসঙ্গতি দেখুন: ছবির পেছনের আলো ও মুখের আলোর মিল না থাকলে সন্দেহ করুন।
৩. অস্বাভাবিক শব্দ বা বিরতি: ভিডিওতে কণ্ঠস্বর যান্ত্রিক শোনালে বা অডিও-ভিডিও মিল না থাকলে সতর্ক থাকুন।
৪. উৎস যাচাই করুন: প্রথমে কোথায় প্রকাশ হয়েছে? নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে এসেছে কি না তা যাচাই করুন।
৫. রিভার্স ইমেজ সার্চ ব্যবহার করুন: গুগল বা অন্যান্য টুল দিয়ে ছবি আগে কোথাও ব্যবহার হয়েছে কি না খুঁজে দেখুন।
শেয়ার করার আগে যা করবেন
* উত্তেজক বা চমকপ্রদ কনটেন্ট দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে শেয়ার করবেন না।
* অন্তত দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবরটি মিলিয়ে নিন।
* সন্দেহজনক হলে ‘ফ্যাক্ট-চেক’ ওয়েবসাইটে যাচাই করুন।
* পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদেরও সচেতন করুন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, নির্বাচনের সময় ভুয়া তথ্য ও ডিপফেক কনটেন্ট নজরদারিতে রাখা হয়। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়ালে বিদ্যমান আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রযুক্তির গতি দ্রুত হওয়ায় শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়—প্রয়োজন জনসচেতনতা।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটারদের সঠিক তথ্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে। ভুয়া এআই কনটেন্ট সেই প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত করতে পারে। তাই প্রযুক্তির এই যুগে ডিজিটাল সাক্ষরতা এখন সময়ের দাবি।
Leave a Reply