রাশিয়া এই বছর বা আগামী বছরের মধ্যে কোন্ও ন্যাটো সদস্য দেশে সামরিক হামলার পরিকল্পনা করছে না। তবে ইউরোপ যখন পুনরায় নিজেদের সামরিক সজ্জায় সজ্জিত করছে, তখন পাল্লা দিয়ে মস্কোও তাদের সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে এস্তোনিয়ার বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
মস্কোর কট্টর সমালোচক এবং ইউক্রেনের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত এই ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রটি রাশিয়ার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে।
এস্তোনিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান কাউপো রোসিন সাংবাদিকদের বলেন, ইউরোপকে অবশ্যই প্রতিরক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় বড় বিনিয়োগ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে রাশিয়া বুঝতে পারে যে ন্যাটোর বিরুদ্ধে তাদের জেতার কোনও সুযোগ নেই।
রোসিন আরও বলেন, আমরা দেখছি রুশ নেতৃত্ব ইউরোপের পুনরায় সামরিক সজ্জায় সজ্জিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। তারা আশঙ্কা করছে, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ইউরোপ রাশিয়ার বিরুদ্ধে স্বাধীনভাবে সামরিক পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হতে পারে। রাশিয়ার বর্তমান লক্ষ্য হলো ইউরোপের এই অগ্রগতিকে ‘বিলম্বিত ও বাধাগ্রস্ত’ করা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ায় গোলাবারুদ উৎপাদন এত দ্রুত বাড়ছে যে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তারা ভবিষ্যতে অন্য কোনও যুদ্ধের জন্য বড় মজুত গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।
গোয়েন্দা সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, যদি কোনোদিন এস্তোনিয়ায় রুশ হামলা হয়, তবে তা হবে ড্রোনের মাধ্যমে। স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে একযোগে এস্তোনিয়ার পুরো ভূখণ্ডে এই ড্রোন হামলা চালানো হতে পারে।
এস্তোনিয়ার গোয়েন্দারা বলছেন, ক্রেমলিন এখনও যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের প্রধান বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মনে করে। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুবিধার্থে তারা সহযোগিতার একটি ভনিতা করছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্রেমলিনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা হলো নতুন মার্কিন প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করা এবং এমন একটি মীমাংসায় পৌঁছানো যা ইউক্রেনের পরাজয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেবে। রাশিয়ার লক্ষ্য অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোকে কোণঠাসা করতে চায় এবং মস্কোর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোকে নতুন রূপ দিতে চায়।
এস্তোনিয়া মনে করে, চীন রাশিয়াকে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে এক দরকারি মিত্র এবং জ্বালানির উৎস হিসেবে দেখে। বিশেষ করে তাইওয়ান নিয়ে কোনও সংঘাত শুরু হলে এবং সমুদ্রপথে অবরোধ তৈরি হলে রাশিয়া হবে চীনের প্রধান জ্বালানি উৎস। দুই দেশই এখন সামরিক প্রযুক্তি গবেষণায় একে অপরকে সহযোগিতা করছে।
প্রতিবেদনটির উপসংহারে বলা হয়েছে, রাশিয়ার কাছে যেকোনও নতিস্বীকার মূলত চীনের বৈশ্বিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকেই রসদ জোগাবে।
Leave a Reply